Monday, September 16, 2013

যেতে চাস, চলেই যাবি

শান্তি লাহিড়ী

যেতে চাস, চলেই যাবি?
যেতে চাস চলেই যাবি,
কিন্তু কোথায়?
কার কাছে তুই যাবি আমার?
যেতে চাইলে যেতে পারিস,
মস্ত উঠোন এপার ওপার দেখা যায় না,
মাঠ পেরুলেই ফুরিয়ে যাবে চোখের বাঁধন,
হারিয়ে যাবে এবড়ো থেবড়ো ধুলোয় ভরা
এই নিগড়ে বাঁধা হ্রদয়।

যেতে চাস? যা- চলেই যা! 
গেলেই কি আর যেতে পারবি?
পরে থাকবে বিরাট পিছন;
আঁচল ধরে পোষা কুকুর -মেচে।
সেই দিন ঠিক যেইখানে দাঁড়িয়ে থেকে আলতা মাখলি;
সেই জায়গা টা ভিতর থেকে টেনে ধরলে যেতে পারবি?
হয়তো পারিস! তার উপরে কানের পাশে ঘনো ঘনো
উষ্ণ বাতাস যে মুহূর্তে বয়ে যাবে মনে পড়বে;
মনে পড়বে, মনে পড়বে, মনের দরজায় ডাকাত পরবে। 
তখন কোথায় পালিয়ে বাঁচবি?

সেইতো আবার মানুষ খোঁজা, আবার একটা হ্রদয় খোঁজা।
সব হারানোর ব্যথায়, শোকে গভীর কাওকে জরিয়ে ধরা। 
বেঁচে থাকতে সবি সমান,
আমিও যা তুইও তেমন।

যেতে যেতে সড়ক মিলে-গঞ্জ থেকে বন্দরে যায়
কিন্তু তবু মুঠো খোলে না, সতর্ক চোখ বুজে না। 
কি হারাবি সময়? মানুষ?
অনাগ্রতা হাস্নাহেনা............




অনন্ত প্রেম

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয় গাঁথিয়াছে গীতহার-
কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।

যত শুনি সেই অতীত কাহিনী, প্রাচীন প্রেমের ব্যথা,
অতি পুরাতন বিরহমিলন কথা,
অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে দেখা দেয় অবশেষে
কালের তিমিররজনী ভেদিয়া তোমারি মুরতি এসে
চিরস্মৃতিময়ী ধ্র"বতারকার বেশে।

আমরা দুজনে ভাসিয়া এসেছি যুগলপ্রেমের স্রোতে
অনাদি কালের হৃদয়-উৎস হতে।
আমরা দুজনে করিয়াছি খেলা কোটি প্রেমিকের মাঝে
বিরহবিধুর নয়নসলিলে, মিলনমধুর লাজে-
পুরাতন প্রেম নিত্যনূতন সাজে।

আজি সেই চির-দিবসের প্রেম অবসান লভিয়াছে,
রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে।
নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ, নিখিল প্রাণের প্রীতি,
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে সকল প্রেমের স্মৃতি-
সকল কালের সকল কবির গীতি।